ভ্রমণ

ঘুরে দেখা দুনিয়া লরা বেগলির তালিকা (তৃতীয় পর্ব)


  • জীবনজয়ী ডেস্ক   ঢাকা |
  • প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৪
ঘুরে দেখা দুনিয়া  লরা বেগলির তালিকা (তৃতীয় পর্ব)
ছবি: এআই

ফোর্বস ম্যাগাজিনের জন্য সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫০ টি স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ভ্রমন বিশেষজ্ঞ লরা বেগলি ব্লুম। ২০১৯ সালে বিগ সেভেন ট্রাভেল ওয়েবসাইট অবলম্বনে ব্লুমের লিখিত এই প্রতিবেদনটি অসংখ্য ভ্রমনপিয়াসী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রমন মানে শুধু কতগুলো ফোটো তোলাতুলি নয় এরকম মনে করা লোকেদের অনেকেই ব্লুমের তালিকা দেখে নিজ-নিজ বাজেট মোতাবেক বছর ভ্রমন তালিকা প্রস্তুত করেন। ব্লুমের উল্লেখিত স্থানগুলোর উপরে অনলাইন অনুসন্ধান চালিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করে জীবনজয়ী টিম। মোট ১০ টি পর্বে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। 

ঘুরে দেখা দুনিয়া: লরা বেগলির তালিকা (প্রথম পর্ব)

পর্বঃ তিন 

১১। নিউ ইয়র্ক সিটি, আমেরিকা 

নিউ ইয়র্ক সিটি হল এমন এক জায়গা, যেখানে স্বপ্ন আর বাস্তবতা মিলেমিশে এক হয়ে যায়। যেখানে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এবং ব্রুকলিন ব্রিজের  মতো আইকনিক জায়গাগুলো ইতিহাস আর স্বপ্নের গল্প বলে। সেন্ট্রাল পার্কের  শান্ত পথে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, টাইমস স্কয়ারের  ঝলমলে আলো দেখে মুগ্ধ হবেন, অথবা ব্রডওয়ের একটি শো দেখে আনন্দ পেতে পাবেন। অন্যতম সেরা সব মিউজিয়ামগুলোর কথা বলাইবাহুল্য। মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম অফ আর্ট, মিউজিয়াম অফ মর্ডান আর্ট, এলিস আইল্যান্ড ইমিগ্রেশন মিউজিয়াম, সেপ্টেম্বর ইলেভেন মিউজিয়াম, আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি – নাম শেষ হবার নয়। অবশ্যই দেখতে যাবেন জাতিসংঘের সদর দপ্তর। চায়না টাউন, লিটল ইটালি, হাডসন নদীবক্ষ থেকে শহরের স্কাইলাইন দেখা বাদ দেয়া যাবে কি? 

নিউ ইয়র্কে পৃথিবীর সব জাতের মানুষ পাবেন। সেখানে ঘুরতে গেলে দেশের আত্নীয়-পরিচিত-তস্য পরিচিতের বাড়ীতে কচুর লতি-ইলিশ মাছ দিয়ে খানা খাবেন, নাকি শত-জাতের মানুষের সাথে মেশামেশি করবেন তা অবশ্যই আপনার ব্যাপার। 

 

১২। দুব্রোভনিক, ক্রোয়েশিয়া 

মাটির পৃথিবীতে যারা স্বর্গ দর্শন করতে চায় তাদের দুব্রোভনিক যাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন জর্জ বার্নাড শ। কথা সত্য। দুব্রোভনিক হলো এমন একটি গন্তব্য যেখানে ইতিহাস, সৌন্দর্য এবং অ্যাডভেঞ্চার এক হয়ে গেছে। সেখানে বেড়াতে প্রাচীন শহরের দেয়াল ঘুরে দেখুন। ব্যাঞ্জে বিচের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটুন। আইকনিক লভ্রিজেনাক দুর্গে ইতিহাস খুঁজুনগেম অফ থ্রোনস এর অনেকাংশের শুটিং হয়েছে এই শহরে। সে জায়গাগুলো চাইলে দেখতে পাবেন। 

ক্রোয়েশিয়ান খাবারের স্বাদ উপভোগের সাথে সাথে, স্থানীয় পানীয় গ্রাপা চেখে দেখেন ঘুরতে যাওয়া মানুষজন। রেক্টর’স প্যালেস, দুব্রোভনিক ক্যাথেড্রাল এবং ঐতিহাসিক ওনোফ্রিও ফোয়ারা দেখুন—যেগুলো শহরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের গল্প বলে। জুলাই-আগস্টে গেলে দুব্রোভনিক সামার ফেস্টিভাল মিস করবেন না – এটা ক্রোয়েশিয়ার শিল্প-সংস্কৃতির একটি বড় উদযাপন। দুব্রোভনিক গেলে এলাফাইট দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে আসবেন, স্টনের ঝিনুক খামার দেখ্বেন,  আর লোগিয়া স্কোয়ারে কফি খেতে খেতে স্থানীয়দের সাথে আড্ডা দেবেন।  


ঘুরে দেখা দুনিয়া: লরা বেগলির তালিকা (দ্বিতীয় পর্ব)

১৩। এডিনবরা, স্কটল্যান্ড

এডিনবরাতে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একাকার। এডিনবরা দুর্গ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে শহরের মাথায় দাঁড়িয়ে, যা মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ও ইতিহাসের সাক্ষী। রয়্যাল মাইল বরাবর হাঁটলে আপনি ঐতিহ্যবাহী দোকান, ক্যাফে এবং পথশিল্পীদের উপস্থাপনা উপভোগ করতে পারবেন। 

মৃত আগ্নেয়গিরি আর্থার্স সিটে উঠে পুরো শহর ও দূরের সমুদ্রের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এডিনবরার ফ্রিঞ্জ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পারফরম্যান্স আর্টস ফেস্টিভ্যাল। আগস্ট মাসজুড়ে চলে।  শহরটিতে গেলে স্কটিশ ব্যাগপাইপের সুর ও কিল্ট পরিহিত স্থানীয়দের বন্ধুতাসুলভ মনোভাব  আপনাকে মুগ্ধ করবে। এডিনবরা মিউজিয়ামে স্কটল্যান্ডের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও শিল্পকলার নিদর্শন দেখা যাবে। ডিসেম্বরে ক্রিসমাস মার্কেট ও হোগমানে উদযাপন বিশেষ আকর্ষণ। শহরটি ইউনেস্কো সিটি অফ লিটারেচার হিসাবে স্বীকৃত। স্যার ওয়াল্টার স্কট বা রবার্ট লুই স্টিভেনসনের মতো লেখকদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। শহর থেকে অল্প দূরে স্কটিশ হাইল্যান্ডসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের টানবে। পর্যটকেরা এডিবরাতে বসে স্কটল্যান্ডের জাতীয় খাবার হ্যাগিস ও সুরাপ্রেমিদের স্বপ্ন হুইস্কি মিস করেন না। 

 

১৪। রোম, ইতালি

রোম শুধু একটি শহর নয়—এটি একটি জ্যান্ত জাদুঘর! কলোসিয়ামের মহিমা আপনাকে রোমান সাম্রাজ্যের গৌরবের কথা মনে করিয়ে দেবে। ভ্যাটিকান সিটিতে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা ও সিসটিন চ্যাপেলের শিল্পকর্ম মানবসভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ট্রেভি ফাউন্টেনে কয়েন ছুড়ে ফেললে আবার রোমে ফিরে আসার লোককথা রয়েছে। পানথিয়ন ও রোমান ফোরামে প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিদর্শন দেখে অবাক হবেন। স্প্যানিশ স্টেপসে বসে জেলাটো খেতে খেতে শহরের প্রাণবন্ততা উপভোগ করুন। ভিয়া দেল কর্সো শপিংপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। প্রতিটি গলিতে লুকিয়ে আছে নতুন আবিষ্কার—হয়তো একটি মধ্যযুগীয় চার্চ বা একটি কোয়ার্টার ফোয়ারা। স্থানীয় পাস্তা, পিজ্জা ও টিরামিসুর স্বাদ নেওয়া আবশ্যক। টাইবার নদী ধরে সন্ধ্যায় হাঁটুন বা ভিলা বোর্গিজে প্রকৃতির মাঝে বিশ্রাম নিন। অ্যাপিয়ান ওয়ে বরাবর সাইকেল চালিয়ে প্রাচীন রোমের অনুভূতি পাবেন। রোমের রাতের জীবনও জমজমাট—রেস্তোরাঁ, বার ও লাইভ মিউজিকের মজা নিন। প্রতিবার ভ্রমণে রোম আপনাকে নতুন কিছু দেবে, তাই একবার নয়, বারবার ফিরে আসুন!

 

১৫। পারো ভ্যালি, ভুটান:

 ভুটানের পারো ভ্যালি প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এক আধ্যাত্মিক স্বর্গ। পাহাড়ি নদী, সবুজ উপত্যকা ও বৌদ্ধ মঠ এখানকার বৈশিষ্ট্য। পারো তাকসাং বা "টাইগার্স নেস্ট" মঠ হিমালয়ের খাড়া পাহাড়ে অবস্থিত, যা ভুটানের প্রতীক। এই মঠে সাধক পাদ্মসম্ভব ধ্যান করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। কিচু লাখাং মঠ ভুটানের প্রাচীনতম বৌদ্ধ স্থাপনাগুলির মধ্যে একটি। পারো ডজং একটি সুদৃশ্য দুর্গ, যা প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র। ভুটান "গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস"-এর ধারণায় বিশ্বাসী, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে জনসুখ更重要। টেকসই পর্যটনের জন্য ভুটানে উচ্চ মানের ট্যুরিজম নীতি রয়েছে—পর্যটকদের দৈনিক ফি দিতে হয় এবং গাইড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। পারো ভ্যালিতে ট্রেকিং করা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে চেরি ব্লসম। স্থানীয় উৎসব "ত্সেচু"-তে মাস্ক নৃত্য ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী হয়। এমা দাটশি (মরিচ ও পনিরের খাবার) ভুটানি খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রানওয়ে হিসাবে পরিচিত, যা পাইলটদের দক্ষতার পরীক্ষা। প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজতে পারো ভ্যালির চেয়ে ভালো জায়গা নেই!



ক্যাটাগরি: ভ্রমণ

         

  রেটিং: ০

এই বিভাগের আরও পোস্ট

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।